ঘরের মাপ অনুযায়ী কত টনের এসি লাগবে
বর্গফুট, ছাদের উচ্চতা, রোদ আর ঘরে কতজন থাকেন — এই চারটি ধরে নিজেই টন বের করার হিসাব।
- প্রকাশ
- ২৯ আগস্ট ২০২৬
- পড়তে
- ৭ মিনিট
এসি কেনার সবচেয়ে বড় ভুলটা হয় প্রথম ধাপেই — দোকানদারের কথায় টন ঠিক করা। ছোট এসি সারাদিন চলেও ঘর ঠান্ডা করতে পারে না, আর বড় এসি দ্রুত ঠান্ডা করে বন্ধ হয়ে যায় বলে ঘরের আর্দ্রতা টানতে পারে না — ঘর ঠান্ডা অথচ ভ্যাপসা লাগে। দুটোতেই বিল বাড়ে।
ভিত্তি হিসাব: বর্গফুট থেকে BTU
বিদেশি গাইডে লেখা থাকে প্রতি বর্গফুটে প্রায় ২০ BTU। ওই সংখ্যাটি ইনসুলেটেড ঘর আর নাতিশীতোষ্ণ আবহাওয়ার জন্য — ঢাকার গরম ও আর্দ্রতায় সেই হিসাবে চললে এসি দুই মাপ ছোট হয়ে যায়। এখানে ভিত্তি ধরা হয়েছে প্রতি বর্গফুটে ৭৫ BTU, যাতে সবার চেনা উত্তরটা মিলে যায় — ১২ × ১২ ফুট বেডরুমে ১ টন।
ভিত্তি সূত্র
বর্গফুট × ৭৫ BTU
১২,০০০ BTU = ১ টন। এটি শুরু বিন্দু — নিচের চারটি কারণে সংখ্যাটা বাড়ে
| ঘরের মাপ | বর্গফুট | প্রয়োজনীয় BTU | এসি |
|---|---|---|---|
| ১০ × ১০ ফুট | ১০০ | ৭,৫০০ | ১ টন |
| ১২ × ১২ ফুট | ১৪৪ | ১০,৮০০ | ১ টন |
| ১৪ × ১৬ ফুট | ২২৪ | ১৬,৮০০ | ১.৫ টন |
| ১৬ × ২০ ফুট | ৩২০ | ২৪,০০০ | ২ টন |
| ২০ × ২৫ ফুট | ৫০০ | ৩৭,৫০০ | ৩ টন |
যে চারটি কারণে হিসাব বাড়াতে হয়
- ১ছাদের উচ্চতা ৯ ফুটের বেশি হলে — প্রতি অতিরিক্ত ফুটে ১০% যোগ করুন। উঁচু ছাদ মানে বেশি বাতাস ঠান্ডা করতে হবে।
- ২ঘরটি যদি সরাসরি পশ্চিম বা দক্ষিণমুখী হয় এবং বিকেলে রোদ ঢোকে — ১৫% যোগ করুন। উল্টোদিকে ছায়াযুক্ত বা উত্তরমুখী ঘরে ১০% বাদ দেওয়া যায়।
- ৩ঘরে নিয়মিত দুজনের বেশি থাকলে — প্রতি অতিরিক্ত ব্যক্তির জন্য ৬০০ BTU যোগ করুন। শোবার ঘরে এটি নগণ্য, কিন্তু অফিস বা দোকানে এটিই সবচেয়ে বড় সংখ্যা হয়ে দাঁড়ায়।
- ৪ঘরে যদি ফ্রিজ, ওভেন, সার্ভার বা অনেকগুলো কম্পিউটার থাকে — প্রতিটি তাপ ছাড়ে, তাই সেগুলোর হিসাবও ধরতে হবে। অফিস বা দোকানে এটিই সবচেয়ে বেশি অবহেলিত।
একটি বাস্তব উদাহরণ
ধরুন ধানমন্ডিতে একটি ১৪ × ১৬ ফুট বেডরুম, ছাদ ১১ ফুট, পশ্চিমমুখী জানালা, রাতে দুজন ঘুমান। বর্গফুট ২২৪ → ভিত্তি ১৬,৮০০ BTU। ছাদ দুই ফুট বেশি হওয়ায় +৩,৩৬০। পশ্চিমের রোদের জন্য +৩,০২৪। মোট ২৩,১৮৪ BTU — অর্থাৎ ২ টন। শুধু বর্গফুট দেখে ১.৫ টন কিনলে ঘরটা কখনোই ঠিকমতো ঠান্ডা হতো না।
টন ঠিক করার পরের ধাপ
টন জানা মানে অর্ধেক কাজ। এরপর ঠিক করতে হয় ইনভার্টার নেবেন কি না, কোন ধরনের ইউনিট (স্প্লিট, ক্যাসেট, পোর্টেবল) আর ইনস্টলেশন কোথায় হবে। একই টনের এসিতেও ব্র্যান্ড ও মডেলভেদে দাম ও বিদ্যুৎ খরচ অনেক আলাদা হয়, তাই একটির দাম শুনেই সিদ্ধান্ত নেবেন না — অন্তত তিনটি অফার পাশাপাশি রাখুন।
সাধারণ প্রশ্ন
১ টন আর ১.৫ টনের মধ্যে দ্বিধায় থাকলে কোনটা নেব?
ঘর যদি উপরের তলায় হয়, বিকেলে রোদ ঢোকে, বা ঘরে নিয়মিত দুজনের বেশি থাকেন — বড়টি নিন। এর কোনোটিই না হলে ছোটটিই যথেষ্ট, বিলও কম আসবে।
দুটি ঘরের জন্য একটি বড় এসি চালানো যায়?
কার্যত ভালো ফল দেয় না। ঠান্ডা বাতাস দরজা পেরিয়ে সমানভাবে ছড়ায় না, ফলে এক ঘর বেশি ঠান্ডা আরেক ঘর গরম থাকে। খোলা হলঘর হলে আলাদা কথা।
পরের ধাপ
কাজটা করিয়ে নিতে চান?
প্রয়োজনটা একবার লিখে দিন — আপনার এলাকার ভেরিফাইড ভেন্ডররা নিজেরাই অফার পাঠাবেন। দাম ও সময় আপনি সরাসরি তাদের সাথে ঠিক করবেন, ACGhor লেনদেনে যুক্ত থাকে না।
এরপর পড়ুন
- ইনভার্টার নাকি নন-ইনভার্টার এসি — কার জন্য কোনটাইনভার্টার সবসময় সাশ্রয়ী নয়। দিনে কত ঘণ্টা চালাবেন, তার উপরেই পুরো হিসাবটা দাঁড়ায়।
- নতুন এসি কেনার আগে যে ৯টি জিনিস দেখে নেবেনদাম শোনার আগে যে প্রশ্নগুলো করা দরকার — ওয়ারেন্টি, ইনস্টলেশন, সার্ভিস সেন্টার আর কাগজপত্র।
- এসিতে মাসে কত বিল আসবে — নিজেই হিসাব করুনএকটি সহজ সূত্র, আপনার নিজের ইউনিট রেট, আর বিল কমানোর সাতটি কাজ যেগুলোয় টাকা লাগে না।